গর্ভধারণের ষষ্ঠ সপ্তাহ

ষষ্ঠ সপ্তাহ নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন

৬ষ্ঠ সপ্তাহে বাইরে থেকে দেখে আপনি গর্ভবতী কিনা তা বুঝা না গেলেও, আপনার গর্ভে এসময় শিশুটি খুব দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকে। আর তার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ সে আপনার শরীর থেকে গ্রহণ করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এসময় আপনি অত্যন্ত ক্লান্ত অনুভব করে থাকেন। 

গর্ভাবস্থার প্রথমদিকের লক্ষণগুলো এসপ্তাহেও প্রায় একই থাকে: 

  • স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্তি অনুভব করা, 
  • স্তনে হালকা ব্যথা হওয়া বা চাপ দিলে ব্যথা অনুভব করা, 
  • মুখে ধাতব এক ধরনের স্বাদ (মেটালিক টেস্ট) পাওয়া বা খবারের স্বাদ বুঝতে না পারা, 
  • বমি বমি ভাব হওয়া (মর্নিং সিকনেস)
  • মাথাব্যথা, 
  • মুড সুইং বা ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হওয়া,
  • খাদ্যাভ্যাসে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসা। হঠাৎ নতুন কোন খাবারে তীব্র রুচি বা প্রিয় কোন খাবারে অরুচি দেখা দেওয়া,
  • ঘ্রাণ শক্তি আগের চেয়ে তীব্র হওয়া,
  • ছোটখাটো বিষয়ে মন খারাপ লাগা/কান্না করে ফেলার প্রবণতা দেখা দেওয়া। গর্ভাবস্থায় শরীরের হরমোনগুলোর ওঠানামার কারণে এসব লক্ষণ দেখা দেয়,
  • সাদস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া,
  • পিরিয়ডের ব্যথার মত তলপেটে মোচড়ানো বা ব্যথা হওয়া,
  • পেটে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপা হয়েছে এমন মনে হওয়া। 

মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থায় আবেগপ্রবণ অনুভব করা খুবই স্বাভাবিক। একেক জনের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতাও একেকরকম হযয়ে থাকে। তাই এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে:

  • এই সময়ে যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেয়ার চেষ্টা করুন। আপনার শারীরিক পরিবর্তন ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে আপনার স্বামী ও পরিবারের সাথে আলোচনা করুন, এতে তাদের জন্য আপনার দেখভাল করা বা সহায়তা করা সহজ হবে। খেয়াল রাখবেন, গর্ভাবস্থার পুরো সময় জুড়ে আপনি এমন শারীরিক ক্লান্তি বা মানসিক অস্থিরতা অনুভব করবেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থাৎ ১২ তম সপ্তাহের পর থেকে এসব সমস্যা ভালো হয়ে যায়। 
  • গর্ভাবস্থায় আপনার ও আপনার শিশুর সুস্থতা বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অর্থাৎ পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
  • গর্ভের সন্তানের সুস্থতার জন্য অবশ্যই ধূমপান, মদ্যপান অথবা অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা, কফি) সেবনের মত অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে। 
  • এছাড়াও গর্ভাবস্থায় কি কি নিয়ম মেনে চলতে হবে সে বিষয়ে ডাক্তার, নিকটস্থ স্বাথ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর সাথে নিয়মিত পরামর্শ করা উচিত। 

গর্ভের শিশু কীভাবে বড় হচ্ছে

গর্ভাবস্থার ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম সপ্তাহে, আপনার গর্ভের ভ্রূণের দেহে যেখানে হার্ট থাকার কথা, সেখানে একটি স্ফীত অংশ দেখা যায়, যা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ হার্ট গঠন করে। এছাড়া নিউরাল টিউব নামে মেরুদণ্ডী প্রাণিদের ভ্রূণের দেহের যেই টিউবের মত অংশ থাকে,  এর সামনেও একটি স্ফীতি দেখা যায়, যা পরবর্তীতে শিশুর মাথা ও মস্তিষ্ক গঠন করে। নিউরাল টিউব থেকে পরবর্তীতে মেরুদন্ডও গঠিত হয়।

এসময় ভ্রূণটির দেহ বাঁকানো থাকে এবং এর একটি লেজের মত অংশ থাকে, ফলে একে দেখতে অনেকটা ব্যাঙাচির মত মনে হয়। এই সময়ে মাসিকের রাস্তা দিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড (ভ্যাজাইনাল) স্ক্যান করা হলে অনেকসময় ভ্রূণের হৃদস্পন্দন টের পাওয়া যায়। 

ভ্রূণের বর্ধিষ্ণু হাত ও পাগুলো (limb buds) এসময় ছোট ছোট স্ফীতি বা ফোলা অংশের মত মনে হয়।  

মাথার দু’পাশের অগভীর খাঁজের মত জায়গা থেকে পরে কান সৃষ্টি হয় আর মাথার সামনের দিকের অংশ আরো গভীর ও কোটরাগত হয়ে চোখের সৃষ্টি করে। 

ইতিমধ্যে, ভ্রূণটি একটি স্বচ্ছ ও পাতলা চামড়া দিয়ে আবৃত হয়ে যায়।