গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাবের কারণ ও করনীয়

গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব

আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে আগের চেয়ে বেশি সাদাস্রাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক, এতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সাদা স্রাব স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব হয় কেন?

গর্ভাবস্থায় প্রায় সকলেরই সাদা স্রাব বেশি হয়। এটি স্বাভাবিক এবং উপকারী। সাদা স্রাব যোনিপথ থেকে কোন জীবাণুকে জরায়ুতে উঠে দেয় না, ফলে গর্ভের সন্তান ইনফেকশন থেকে রক্ষা পায়। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সাদা স্রাবের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহে এটি দেখতে আঠালো, জেলীর মত ও হাল্কা গোলাপী রঙের হতে পারে।যখন জরায়ুমুখে থাকা আঠালো পদার্থ বা মিউকাস বের হয়ে আসে তখন এমন হয়। একে বলা হয় ‘শো’। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে আপনার দেহ প্রসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই এরকম ‘শো’ দেখা যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোন ধরণের সাদা স্রাব ঝুঁকির কারণ?

স্বাভাবিক সাদা স্রাব পাতলা, পরিষ্কার বা দুধের মত সাদা ও দুর্গন্ধ বিহীন। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

  • সাদা স্রাবে যদি দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে,
  • সাদা স্রাবে যদি দেখতে সবুজ বা হলুদ রঙের হয়,‌
  • যোনিপথে ও এর আশেপাশে চুলকায় বা ব্যথা থাকে,
  • প্রস্রাবের সময় যদি ব্যথা বা জ্বালা-পোড়া অনুভূত হয় ।

এ লক্ষণগুলো যোনিপথে ইনফেকশনের উপসর্গ হতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় যদি যোনিপথ দিয়ে রক্ত যায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তার অথবা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন। 

গর্ভাবস্থায় ছত্রাক দিয়ে ইনফেকশন (থ্রাশ)

ছত্রাক দিয়ে ইনফেকশন (থ্রাশ) এর কারণে অস্বাভাবিক ধরনের সাদা স্রাব হতে পারে। সহজেই এই ইনফেকশনের চিকিৎসা করা যায়। এজন্য দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। থ্রাশের কারণে নিচের উপসর্গ দেখা দিতে পারে—

  • অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা স্রাব (দেখতে দই এর মত), যদিও সাধারণত এতে কোন গন্ধ থাকে না,
  • যোনিপথে ও এর আশেপাশে চুলকানো ও জ্বালা-পোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।

আপনার যদি এই উপসর্গগুলোর কোনটি থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। এই ইনফেকশন প্রতিরোধ করার জন্য ঢিলেঢালা, সুতির অন্তর্বাস পরার অভ্যাস করুন। সুগন্ধযুক্ত সাবান এড়িয়ে চললেও উপকার পাওয়া যায়।

বিশেষ সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় ছত্রাক ইনফেকশন দূর করার সব ওষুধ নিরাপদ নয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যেকোন ওষুধ খাওয়া উচিৎ নয়।