গর্ভধারণের সপ্তম সপ্তাহ

সপ্তম সপ্তাহ নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন:

গর্ভাবস্থার ৭ম থেকে ৮ম সপ্তাহের মধ্যে আপনার গর্ভের আকার প্রায় একটি লেবুর মত হয়। আপনার গর্ভাশয় বাড়ন্ত শিশুটিকে ধারণের জন্য ক্রমাগত বড় হতে থাকে হতে থাকে, এর আশেপাশের পেশি বা লিগামেন্ট গুলোতে চাপ পড়ে, ফলে আপনি পেটে হালকা টান বা ব্যথা অনুভব করতে পারেন।  

এসময় আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালনের বা চলাচলের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যায়, এই বাড়তি সঞ্চালন গর্ভের শিশুর নিয়মিত ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে৷ এই বাড়তি চাহিদার কারণে আপনার ঘন ঘন পিপাসা পাওয়াটা স্বাভাবিক। এসময় দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। 

এসময় আপনার ক্লান্তি বোধ হতে পারে৷  স্তনে ব্যথা বা স্তনের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে এমনটা বোধ হতে পারে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হতে পারে। 

অনেকে এসময়ে বমিবমি ভাব ও ক্লান্তি বোধ করেন ও  গর্ভাবস্থার অন্যান্য কিছু ছোটখাটো সমস্যা যেমন, কষা পায়খানা, পায়ের পেশী বা পাতায় ব্যথা, মাথা ঘুরানো, অতিরিক্ত গরম অনুভব করা, ত্বকে কালো কালো ছোপ দেখতে পাওয়া, কোমরে ব্যথা ইত্যাদি বোধ করা শুরু করেন, যা সাধারণত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে।  

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই,  এই বমি বমি ভাব ও বমি (মর্নিং সিকনেস) গর্ভাবস্থার ১৪ তম সপ্তাহ বা এর কাছাকাছি সময়ে গিয়ে সেরে ওঠে।

যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে:

কোন কোন ইনফেকশন গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের ক্ষতির কারণ হতে পারে। যদি মনে হয় আপনার কোন ধরনের ইনফেকশন হয়েছে তবে এ ব্যাপারে ডাক্তার বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর সাথে পরামর্শ করুন, যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা যায়।  

গর্ভাবস্থায় আপনার দাঁতের মাড়িতে ব্যথা বা রক্তপাত হতে পারে৷  এধরনের সমস্যা এড়ানোর জন্য দাঁত ও মাড়ির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ওরাল হাইজিন (Oral Hygiene) অর্থাৎ নিয়মিত দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেয়া (নিয়মিত দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করা, বার বার মুখ কুলি করা ইত্যাদি) এর কোন বিকল্প নেই। 

৮ম থেকে ১৪তম সপ্তাহের মধ্যে আপনার প্রথম গর্ভকালীন চেক-আপ (ফার্স্ট এন্টিনেটাল এপয়েন্টমেন্ট) করানো সব থেকে ভালো৷ তাই এ সপ্তাহেই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তী চেক আপের বিস্তারিত সময়সূচি জেনে নিন। 

গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের মাত্রার ওঠা নামার কারণে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন । এসময় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে অনেকে ঘুমের মধ্যে বিচিত্র স্বপ্ন দেখেন আবার অনেকে একেবারেই ঘুমাতে পারেন না৷ বিচলিত না হয়ে নিজের যত্ন নিন, নিজের খেয়াল রাখুন। মন ভালো করে দেয়, এমন সব কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।

গর্ভের শিশু কীভাবে বড় হচ্ছে:

৭ম সপ্তাহের মধ্যে আপনার গর্ভের ভ্রূণ লম্বায় প্রায় ১০ মিলিমিটার বা ১ সেন্টিমিটার হয়ে যায়। এই সময়ে ভ্রূণটি দেখতে অনেকটা ব্যাঙাচির মতো থাকে, তাই ভ্রূণের মাথার তালু থেকে লেজের মতো অংশটি পর্যন্ত দৈর্ঘ্য হিসাব করা হয়। এই লেজের মত অংশটি ক্রমান্বয়ে ছোট হতে থাকে ও কয়েক সপ্তাহ পরে আর এটি দেখা যায় না৷ 

এসময় মস্তিষ্ক খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় মাথা অনেক তাড়াতাড়ি বাড়তে থাকে। ভ্রূণের মাথার সামনের অংশ বা কপাল বেশ বড় হয়, এর চোখ-কানগুলোও বিকশিত হতে থাকে। এসময় চোখের পাতা তৈরি হয়ে চোখ দুটোকে সুরক্ষিত করে।

এসময় অন্তঃকর্ণ (কানের সব থেকে ভেতরের অংশ) তৈরি হতে শুরু করে, তবে মাথার দু’পাশে বহিঃকর্ণ (কানের বাইরের অংশ) আরো কয়েক সপ্তাহ পরে দেখা যায়৷ 

বর্ধিষ্ণু হাত ও পায়ে  তরুণাস্থি তৈরি হতে শুরু করে,  যা থেকে পরবর্তীতে অস্থি অর্থাৎ হাড় গঠিত হয়।বর্ধিষ্ণু হাতগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে এর প্রান্তভাগ চ্যাপ্টা হয়ে হাতের তালু গঠন করে। 

মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড (সেই সাথে স্নায়ুতন্ত্র) সুগঠিত হওয়ার সাথে সাথে স্নায়ুকোষ গুলো সংখ্যাবৃদ্ধি ও বিকাশ লাভ করতে থাকে। এসময় ভ্রূণটির দেহে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০ টির মত স্নায়ুকোষ (brain cell) তৈরি হতে থাকে। তাই এসময় নিয়মিত ফলিক এসিড সেবন করা জরুরি যেন শিশুটির স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত হয়।