গর্ভধারণের ১১তম সপ্তাহ

১১তম সপ্তাহ নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন

গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্ত চলাচলের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। গর্ভের শিশুর বৃদ্ধির জন্য এই বাড়তি রক্ত চলাচল জরুরি, তবে এর ফলে গর্ভবতী মায়েরা অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করে থাকেন; অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ঘুরানো বা মাথাব্যথার মত সমস্যাও দেখা দেয়।  

এছাড়া গর্ভের আকার বাড়ার সাথে সাথে এর আশেপাশের পেশি বা লিগামেন্টে টান পড়ার ফলে অনেকে পেটেও ব্যথা অনুভব করেন। 

সেই সাথে এসময় গর্ভাবস্থার অন্যান্য লক্ষণ গুলোও থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্ত অনুভব করা,
  • স্তনে হালকা ব্যথা বা চাপ দিলে ব্যথা অনুভব করা,
  • মুখে ধাতব এক ধরনের স্বাদ (মেটালিক টেস্ট) পাওয়া বা খবারের স্বাদ বুঝতে না পারা, 
  • বমি বমি ভাব হওয়া (মর্নিং সিকনেস), 
  • হজমে সমস্যা ও বুক জ্বালাপোড়া করা,
  • মাথাব্যথা, 
  • মুড সুইং বা ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হওয়া,
  • খাদ্যাভ্যাসে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসা – হঠাৎ নতুন কোন খাবারে তীব্র রুচি বা প্রিয় কোন খাবারে অরুচি দেখা দেওয়া,
  • ঘ্রাণ শক্তি আগের চেয়ে তীব্র হওয়া,
  • মাথা ঘুরানো,
  • সাদস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া,
  • পিরিয়ডের ব্যথার মত তলপেটে মোচড়ানো বা ব্যথা হওয়া,
  • পেটে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপা হয়েছে এমন মনে হওয়া,
  • চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ হওয়া।

যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে

  • গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিলে মিসক্যারেজ বা অকাল গর্ভপাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এছাড়া ক্যাফেইন সেবনের মাত্রা কমালে গর্ভের শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকিটাও কমে। তাই এসময় চা-কফি জাতীয় পানীয় পান করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা উচিত। 
  • ৮-১৪ সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত প্রথম আলট্রাসনোগ্রাফি স্ক্যানটি করানো হয়। এই স্ক্যানের মাধ্যমে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি দেখে ডেলিভারি তথা প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ হিসাব করা যায় বলে একে ‘ডেটিং স্ক্যান’ও বলা হয়। আপনার ডেটিং স্ক্যানটি কোন সপ্তাহে করানো হবে সে বিষয়ে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ১,৫০০ শিশু ‘ডাউন সিনড্রোম’ নামের শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাধি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাই সম্ভব হলে গর্ভাবস্থার ১০ থেকে ১৪ তম সপ্তাহের ভেতরে একটি স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নেয়া উচিত; এই স্ক্রিনিং টেস্টের মধ্যে থাকে আলট্রাসনোগ্রাম এবং কিছু রক্ত পরীক্ষা৷ আপনার ডেটিং স্ক্যান টি করানোর সময়ই এ বিষয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিতে পারেন।

তাছাড়া গর্ভের শিশুর কোনো জন্মগত ত্রুটি আছে কিনা জানতে আপনার ডাক্তার এই সপ্তাহে আপনাকে ‘অ্যানোমালি স্ক্যান’ নামের এক বিশেষ আলট্রাসনোগ্রাফি স্ক্যান করার উপদেশ দিতে পারেন।

গর্ভের শিশু কীভাবে বড় হচ্ছে

শিশুটি এসময় দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকে। প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল তথা অমরাও খুব দ্রুত বিকশিত হতে থাকে। ১২ সপ্তাহের মধ্যে এটি পুরোপুরিভাবে গড়ে ওঠে।

মুখমণ্ডলের হাড়গুলোও এই সময়েই গঠিত হয়ে যায়৷ চোখের পাতা বন্ধ অবস্থায় থাকে। পরবর্তী কয়েক মাসও এটি এই অবস্থাতেই থাকে। মাথার দু’পাশে ছোট কুঁড়ির মত কানের অংশ গুলো বৃদ্ধির সাথে সাথে এখন অনেকটাই পরিপূর্ণ কানের মত দেখতে হয়ে যায়।  শিশুর মাথা এই সপ্তাহে লম্বায় তার পুরো শরীরের তিন ভাগের এক ভাগ-এর সমান হয়। তবে শরীরের বাকি অংশ ও দ্রুত বাড়তে থাকে।

দেহ বাঁকানো থেকে ধীরে ধীরে সোজা হতে থাকে।  হাত ও পায়ের জোড়া লাগানো আঙুলগুলো আলাদা হয় এবং আঙুলের নখ তৈরি হয়। 

শিশুটি এসময় গর্ভের ভেতরে হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি শুরু করে, তবে এখনো গর্ভবতী মা এই নাড়াচাড়া টের পান না।