গর্ভধারণের অষ্টম সপ্তাহ

অষ্টম সপ্তাহ নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন:

গর্ভধারণের ৭ম থেকে ৮ম সপ্তাহে আপনার গর্ভের আকার প্রায় একটি লেবুর মত হয়। ক্রমশ বড় হতে থাকা  গর্ভাশয় আপনার মূত্রথলির আশেপাশে চাপ সৃষ্টি করে বলে এসময় ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হতে পারে। 

এসময় আপনার ক্লান্তি বোধ হতে পারে৷  স্তনে ব্যথা বা স্তনের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে এমনটা বোধ হতে পারে।

এছাড়া অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে:

  • মুখে ধাতব এক ধরনের স্বাদ (মেটালিক টেস্ট) পাওয়া বা খবারের স্বাদ বুঝতে না পারা, 
  • বমি বমি ভাব হওয়া (মর্নিং সিকনেস), 
  • মাথাব্যথা, 
  • মুড সুইং বা ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হওয়া,
  • খাদ্যাভ্যাসে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসা, হঠাৎ নতুন কোন খাবারে তীব্র রুচি বা প্রিয় কোন খাবারে অরুচি দেখা দেওয়া,
  • ঘ্রাণ শক্তি আগের চেয়ে তীব্র হওয়া,
  • ছোটখাটো বিষয়ে মন খারাপ লাগা/কান্না করে ফেলার প্রবণতা দেখা দেওয়া। গর্ভাবস্থায় শরীরের হরমোনগুলোর ওঠানামার কারণে এসব লক্ষণ দেখা দেয়,
  • সাদস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া,
  • পিরিয়ডের ব্যথার মত তলপেটে মোচড়ানো বা ব্যথা হওয়া,
  • পেটে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপা হয়েছে এমন মনে হওয়া। 

এরই মধ্যে আপনার মাসিক বা পিরিয়ড বন্ধ থাকার প্রায় দুই মাস হয়ে যায় । তবে কারো কারো ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ও কিছুটা রক্তপাত হতে পারে৷ গর্ভাবস্থায় যে কোন ধরনের রক্তপাতের ব্যাপারে অবশ্যই আপনার ডাক্তার, নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীকে জানান, বিশেষত এই রক্তপাত যদি নিয়মিত হয় এবং এর সাথে আপনার পেটে ব্যথা অনুভূত হয়।

যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে:

এ সময়ের মধ্যেই আপনার প্রথম গর্ভকালীন চেক-আপ (এন্টিন্যাটাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট) করানো উচিৎ এবং গর্ভাবস্থায় কয়বার এই সেবা নিতে হবে, কি কি পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে এইসব বিষয়ে আপনার ডাক্তার, নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিৎ।

গর্ভের শিশু কীভাবে বড় হচ্ছে:

গর্ভধারণের ৮ম সপ্তাহ থেকে গর্ভের শিশুকে বলা হয় ‘ফিটাস’, যার মাধ্যমে আপনার অনাগত সন্তানকে বুঝানো হয়।   

এসময়ে ফিটাসের হাত, পায়ের চেয়ে দৈর্ঘ্যে লম্বা হয়, কারণ এসময় শরীরের উপরের অংশ নিচের অংশের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাগুলো সাথে সাথে বাড়লেও পায়ের বিভিন্ন অংশ তখনো আলাদা ভাবে বুঝা যায় না। পায়ের হাঁটু, গোড়ালি, উরু ও আঙুল গুলো বিকশিত হতে আরো কিছু সময় লাগে। 

ফিটাসটি এমনিওটিক থলে (পানীর মত তরলে পূর্ণ একটি স্বচ্ছ কিন্তু শক্তিশালী থলে) এর  ভেতরেই অবস্থান করে। গর্ভাশয় প্রাচীরে সংযুক্ত হওয়ার জন্য কাঠামো তৈরির মাধ্যমে অমরা বা ফুল (প্লাসেন্টা) বিকশিত হতে থাকে।  

এই সময়েও ভ্রূণটি তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি কুসুম থলে (yolk sac) হতে পেয়ে থাকে। গর্ভধারণের পরে প্রথমেই গর্ভের যে আবৃত অংশ দেখা যায়, তাকে ভ্রূণের কুসুম থলে বলা হয়।