ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম ও ওজন

আপনি টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থ থাকতে পারবেন। একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটের সাথে পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে তা আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। সেই সাথে এগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করবে এবং আপনি সামগ্রিকভাবে বেশ সুস্থ বোধ করবেন। 

শরীর সচল রাখলে আপনার রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে          

নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। আড়াই ঘণ্টা শুনেই ভড়কে যাবেন না – আপনি এই আড়াই ঘণ্টাকে সপ্তাহের সাত দিনে ভাগ করে নিতে পারেন। সপ্তাহের যেকোনো পাঁচ দিন মাত্র ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করলেও সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টা শারীরিক পরিশ্রম করা হয়ে যাবে।

যেসব কাজ করলে আপনার শরীর ঘাম দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সেগুলোর মধ্যে যেকোনো একটিকে আপনি আপনার ব্যায়ামের জন্য বেছে নিতে পারেন। 

এই কাজটি হতে পারে:

  • দ্রুত হাঁটা, জগিং করা বা দৌড়ানো
  • সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা
  • সাইকেল চালানো
  • অপেক্ষাকৃত ভারী ঘরের কাজ করা বা বাগান করা 

আপনার ওজন এবং এর গুরুত্ব     

আপনার শরীরের ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়, তবে ওজন কমালে তা আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। সেই সাথে আপনার ব্লাড প্রেশার এবং রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হবে।

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
আপনার ব্লাড প্রেশার ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা (রক্তে চর্বির পরিমাণ) নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য বছরে অন্তত একবার নিয়ম করে ডায়াবেটিসের সম্পূর্ণ চেকআপ করান। 

ডায়াবেটিসের চেকআপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

আপনার ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কিনা তা জানতে আপনার বিএমআই মেপে দেখুন। 

আপনার যদি ওজন কমানোর প্রয়োজন হয়, তবে মাথায় রাখবেন – সাধারণত সময় নিয়ে, ধীরে ধীরে ওজন কমিয়ে আনাই উত্তম। সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি করে ওজন কমানোর পরিকল্পনা রাখুন।

স্বল্প মেয়াদের (প্রায় ১২ সপ্তাহের) এবং কম-ক্যালোরিযুক্ত (সারাদিনে ৮০০-১২০০ ক্যালোরি)ডায়েট টাইপ ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই সাথে কেউ কেউ লক্ষণগুলো থেকে পুরোপুরিভাবে মুক্তিও পেয়েছেন। 

তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে এমন সবার জন্যই যে এই কম-ক্যালোরির ডায়েট প্রযোজ্য কিংবা নিরাপদ হবে, তা নয়। যেমন যাদের ইনসুলিন নিতে হয় তাদের জন্য এ ধরনের ডায়েট নিরাপদ নয়, তাই এই ধরনের ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়তে পারেন


আর্টিকেলটি লেখা ও সম্পাদনায় কাজ করেছেন: সামিয়া আফরিন এবং ডা. ইমা ইসলাম।