ডায়াবেটিস রোগীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ডায়াবেটিস রোগীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ডায়াবেটিস হলে আপনার অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আপনি হার্ট, কিডনি, ব্রেইন ও স্নায়ুর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অনেক সময় নীরবে, কোন লক্ষণ ছাড়াই এসব রোগ আপনার শরীরে বাসা বাঁধে, যা আপনি বুঝতে পারেন না। এজন্যই আমরা ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চেকআপ করার পরামর্শ দিই।

ডায়াবেটিসের স্বাস্থ্য জটিলতাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের নানা স্বাস্থ্য জটিলতা ও আপনার করণীয় শীর্ষক আর্টিকেলটি পড়ুন।

ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চেকআপে থাকতে হয়। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা ৩ মাস পরপর করতে হয়, আবার কিছু পরীক্ষা আছে যেগুলো প্রতি বছরে একবার করে করতে হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর প্রতি তিন মাস পর যে পরীক্ষা করাতে হবে

রক্তের সুগার পরীক্ষা (HbA1C test) 

এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে আপনার রক্তে থাকা সুগারের গড় (average) পরিমাণ বের করা হয়। এভাবে আপনার সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার কতটা কাছাকাছি তা নির্ধারণ করা যায়।

আপনি নতুন করে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে প্রতি ৩ মাস পর পর এই পরীক্ষাটি করাতে হবে। পরবর্তীতে আপনার ডায়াবেটিস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে ৬ মাস পর পরও এই পরীক্ষা করানো যাবে।

ডায়াবেটিস রোগীর বছরে একবার যেসব পরীক্ষা করাতে হবে

১. পায়ের অবস্থা 

ডায়াবেটিস আপনার পায়ে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে পায়ের যেকোনো অংশকে অবশ করে দিতে পারে। এতে পায়ে কোনো আঘাত পেলে বা ঘা-ক্ষত হলে তা সেরে উঠতে বেশ বেগ পেতে হয়। অনেকসময় এসব ক্ষত বা ঘা ঠিকমত সেরে ওঠে না, আবার পায়ের কোন অংশে ক্ষত হলে বা অবশ হয়ে গেলে তা সহজে বোঝাও যায় না। এর ফলে পায়ে আলসার বা ইনফেকশনের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

তাই আপনার দুই পায়ে ঠিকমতো বোধ পাচ্ছেন কি না অর্থাৎ স্পর্শ, ব্যথা, ঠাণ্ডা-গরম ইত্যাদি অনুভব করতে পারছেন কিনা সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সেই সাথে নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে যে পায়ের কোন অংশ অবশ হয়ে গেছে কিনা। এছাড়াও পায়ে কোন ধরনের ক্ষত, আলসার বা ইনফেকশন দেখা দিয়েছে কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

আপনার পায়ে যদি কোন ধরনের কাটা-ছেঁড়া, ঘা বা ক্ষত হয়, কিংবা পা অবশ হয়ে আছে এমনটা মনে হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷ ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্ন নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

২. চোখ  

ডায়াবেটিস হলে চোখের রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা থেকে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি), এমনকি অন্ধত্বও দেখা দিতে পারে।   

নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই আপনার চোখের সমস্যাটি ধরে ফেলা যাবে। চোখের রক্তনালির সমস্যার দ্রুত চিকিৎসা করা হলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই আপনার চোখের রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে  কিনা জানতে প্রতি বছর চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। 

চোখে ঝাপসা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাবেন। 

৩. ব্লাড প্রেশার, কোলেস্টেরল ও কিডনি    

ডায়াবেটিস হলে হাই ব্লাড প্রেশার, হার্টের রোগ অথবা কিডনির সমস্যা হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এসব রোগ নীরবে আপনার দেহে বাসা বাঁধে, গুরুতর হয়ে ওঠার আগে সাধারণত এসব রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই পরীক্ষা করানোর আগে এসব সমস্যা ধরাও পড়ে না।

এজন্য আপনার হাই ব্লাড প্রেশার, উচ্চ কোলেস্টেরল, হার্টের রোগ অথবা কিডনির সমস্যা আছে কিনা তা প্রতি বছর পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেয়া হয়। এতে করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে এসব রোগের জটিলতা কমানো যায়।