1. কোভিড-১৯

করোনা রোগীর কখন দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন?

করোনা আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই সুস্থ হয়ে ওঠে বিশেষ কোন চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পরে না। তবে কিছু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হয়। তাই আপনার জানতে হবে কোন লক্ষণ দেখা দিলে বাসায় থেকেই নিজের পরিচর্যা করতে পারবেন আর কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন।

কোন লক্ষণগুলো দেখা দিলে বাসায় থাকবেন?

১। জ্বর – বাসায় থার্মোমিটার থাকলে সেটা দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপবেন। সাধারণত তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশী হলে সেটাকে জ্বর ধরা হয়। থার্মোমিটার না থাকলে বুকে পিঠে হাত দিয়ে যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম মনে হয়, তাহলে ধরে নেবেন জ্বর এসেছে।

২। কাশি – বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুকনো কাশি হয়। অর্থাৎ কাশির সাথে কফ বের হয় না। ফুসফুসের বা হার্টের রোগের কারণে যাদের এমনিতেই কাশি থাকে তাদের কাশি স্বাভাবিকের চেয়ে খারাপ হয়ে যায়।

৩। ঘ্রাণশক্তি বা মুখের স্বাদ চলে যাওয়া – অনেক কোভিড রোগী কোন কিছুর গন্ধ শুকতে পারে না বা খাবারের স্বাদ বুঝতে পারে না। অথবা ঘ্রাণ ও স্বাদ আগের চেয়ে ভিন্ন হয়ে যায়।

৪। প্রচণ্ড ক্লান্তি বা ফ্যাটিগ (fatigue) – শরীর খুব দুর্বল লাগে। ছোট কোন কাজ করতেও অনেক কষ্ট হয়।

আরো কিছু লক্ষণ আছে। এই লক্ষণগুলো একটু কম দেখা যায়, যেমন:

  • সর্দি বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মাথাব্যথা
  • গলা ব্যথা
  • বমিভাব
  • বমি
  • ডায়রিয়া
  • শরীরে আর মাংসপেশিতে ব্যথা
  • চোখের ইনফেকশন বা কনজাঙ্কটিভাইটিস (conjunctivitis) – চোখ দুটো লাল হয়ে যায়। পুঁজ বের হয়ে চোখের পাতা একটা আরেকটার সাথে লেগে যায়। আমরা অনেকেই এটাকে ‘চোখ ওঠা’ নামে চিনি। এটা সাধারণত কয়েক সপ্তাহে নিজে নিজেই সেরে যায়।
  • র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি – গায়ে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি উঠতে পারে। হাতে পায়ের আঙ্গুলের রং বদলে যেতে পারে। এই লক্ষণটি দেখা দিলে একজন চিকিৎসক দেখিয়ে নেয়া শ্রেয়। তিনি বলতে পারবেন এটা করোনার কারণে নাকি অন্য কোন কারণে হচ্ছে।

মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলোর যে কোন একটা দেখা দেওয়া মানেই করোনা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। করোনা আসার আগেও মানুষের জ্বর-সর্দি হত। তবে এখন লক্ষণ দেখা দিলে করোনার কথা চিন্তা করতে হবে এবং সব ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন, বাসার বাইরে না যাওয়া। যদি পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে, তবে তো নিশ্চিত হতেই পারবেন।

হাসপাতালে না যেয়ে বাসায় থাকার এই পরামর্শে আপনার খটকা লাগতে পারে। আমরা সাধারণত অসুস্থ বোধ করলে ডাক্তারের কাছে যেতে বলি। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে বলছি উল্টো। আসলে মৃদু উপসর্গের রোগীর জন্য আলাদা কোন চিকিৎসা নেই। তাই হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পরে না। বরং হাসপাতালে গেলে অন্যান্য ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন।

কখন দ্রত হাসপাতালে যেতে হবে?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই ঘাবড়ে যাবেন না। বরং ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করবেন কীভাবে আপনি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে পারেন।

১। শ্বাসকষ্ট – দম আটকে যাচ্ছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। হাঁটতে গেলে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

২। ঠোঁট বা চেহারা নীল হয়ে যাওয়া –  এটার মানে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা আগেই ধরে ফেলার জন্য বাসায় পালস অক্সিমিটার ব্যবহার করতে পারেন। অনেক কোভিড রোগীর শ্বাসকষ্ট হয় না কিন্তু দেখা যায় অক্সিজেন লেভেল অনেক কম।

৩। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া –  এটা কিডনি আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ।

৪। বুকে ব্যথা কিংবা চাপ চাপ লাগা – এটা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণেও হতে পারে। দয়া করে কোন ভাবেই বুকে ব্যথা এড়িয়ে যাবেন না।

৫। হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড ঘাম, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া – এটাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। হার্ট অ্যাটাক হলে যে সবারই বুকে ব্যথা হবে, এই ধারণাটা সঠিক নয়।

৬। এমন র‍্যাশ ওঠা যেটার উপরে গ্লাস দিয়ে চাপ দিলে মিলিয়ে যায় না – এটা মস্তিষ্কে ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।

৭। মুখে কথা আটকে যাওয়া বা হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া, নাড়াতে না পারা– অনেকেই জানেন যে এটা স্ট্রোকের লক্ষণ।

৮। কাশির সাথে রক্ত যাওয়া

শেষের তিনটি লক্ষণ হয়তো রোগী নিজে বুঝতে পারবে না। রোগীকে যারা সেবা দিবেন, তাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। লক্ষণগুলো হল:

৯। ঝিমুতে থাকা – রোগী একেবারেই জেগে থাকতে পারছে না যে সময়ে স্বাভাবিকভাবে জেগে থাকতে পারে। রোগীকে ডেকেও জাগিয়ে তোলা যাচ্ছে না। বারবার ঝিমিয়ে পড়ছে।

১০। বিভ্রান্তি (confusion) – রোগী ভুলে যাচ্ছে, কিছু মনে রাখতে পারছে না, বা অসংলগ্ন আচরণ করছে, যা রোগীর জন্য স্বাভাবিক না।

১১।  রোগী অজ্ঞান হয়ে পরা

এছাড়াও যখন হাসপাতালে যেতে হতে পারে:

  • এসব লক্ষণ ছাড়াও অন্য কারণে যদি মনে হয় রোগী দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে
  • যাদের অন্যান্য রোগ আছে, যেমন ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ইত্যাদি, এবং বাসায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না
  • যেসব লক্ষণ দেখা দিলে বাসায় থাকা যাবে, সেগুলোর কোনটা যদি গুরুতর হয়ে যায়। যেমন, বমি কিছুতেই থামছে না।

নিরাপদে থাকবেন।