গর্ভাবস্থায় পায়ের গিরা, পাতা বা আঙুল ফুলে যাওয়া

গর্ভাবস্থায় পায়ের গিরা, পাতা বা আঙুল ফুলে যাওয়া

গর্ভাবস্থায় দেহের কিছু জায়গা, বিশেষ করে পা, পায়ের গিরা, পায়ের পাতা ও আঙুল মাঝে মাঝে ফুলে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

দিনের শেষে অর্থাৎ সন্ধ্যা বা রাত্রের দিকে ও গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এই সমস্যা বেড়ে যায়। এ ফুলে যাওয়ার সমস্যা ধীরে ধীরে দেখা দিলে তা আপনার বা আপনার গর্ভের সন্তানের জন্য সাধারণত তেমন ক্ষতিকর নয়, যদিও এটি বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে।

হঠাৎ করে শরীর ফুলে যাওয়া প্রি-এক্লাম্পসিয়া (গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্তচাপ) এর লক্ষণ হতে পারে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে (২০ সপ্তাহের পর থেকে) বা প্রসবের পরপর কেউ কেউ এই সমস্যার সম্মুখীন হন।

যে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

  • মুখ, হাত বা পায়ের পাতা হঠাৎ ফুলে যাওয়া,
  • অসহ্য মাথাব্যথা,
  • দৃষ্টিতে সমস্যা, যেমন দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাওয়া বা চোখে আলোর ঝলক দেখা,
  • বুকের পাঁজরের ঠিক নিচে তীব্র ব্যথা,
  • এ উপসর্গগুলোর যেকোনটির সাথে বমি হওয়া।

এগুলো প্রি-এক্লাম্পসিয়ার উপসর্গ হতে পারে। সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও উপযুক্ত চিকিৎসা না করা হলে এর থেকে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় শরীর ফুলে যাওয়া কি স্বাভাবিক?

গর্ভাবস্থায় আপনার দেহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি ধরে রাখে বলে শরীর ফুলে যায়। যদি আবহাওয়া গরম থাকে ও আপনি অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে সারাদিনে এ বাড়তি পানি দেহের নিচের দিকে জমা হয়। 

আপনার বাড়তে থাকা জরায়ুর চাপে পায়ের রক্ত চলাচল প্রভাবিত হতে পারে। এর কারণে পা, পায়ের পাতা ও পায়ের গিরায় তরল জমা হয়ে সেগুলো ফুলে যায়।

গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করনীয়

  • দীর্ঘ সময় ধরে একটানা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
  • আরামদায়ক জুতা, মোজা পরুন। আপনার পা ফুলে গেলে চাপ লাগতে পারে এমন কিছু এড়িয়ে চলুন।
  • যতবার সম্ভব পায়ের পাতা উপরের দিকে রেখে বিশ্রাম নেয়ার চেষ্টা করুন।
  • প্রচুর পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হতে সাহায্য করবে।
  • নিয়মিত হাঁটার বা পায়ের পাতার ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

পায়ের পাতার ব্যায়াম

আপনি বসে বা দাঁড়িয়ে পায়ের পাতার ব্যায়াম করতে পারেন। এটি রক্ত চলাচল ভালো করে, পায়ের গিরা ফুলে যাওয়া কমায় ও পায়ের পেশীতে টান লাগা বা ক্র্যাম্প হওয়া প্রতিরোধ করে:

  •  ৩০ মিনিট ধরে পায়ের পাতা উপরে নিচে করে ভাঁজ করুন ও আবার টানটান করুন।
  • পায়ের পাতা ৮ বার একদিকে ঘোরান ও আবার ৮ বার তার বিপরীত দিকে ঘোরান।