গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কমানোর উপায়

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কমানোর উপায়

আমাদের প্রত্যেকের শরীরে লিগামেন্ট নামের কিছু টিস্যু থাকে, যা হাড়গুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।  গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করতে প্রাকৃতিকভাবেই এই লিগামেন্টগুলো নরম ও টানটান হয়ে যায়। এতে আপনার কোমর ও কোমরের নীচের অংশের হাড়গুলোর ওপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শুরুর দিকে অনেকেই কোমর ব্যথায় ভোগেন। 

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কমানোর উপায়

নিচের এই কাজগুলো আপনার কোমরে ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • মেঝে থেকে কিছু তোলার সময় হাঁটু ভাঁজ করে ও পিঠ সোজা রেখে তারপর তুলুন, সামনে ঝুঁকে তুলবেন না; 
  • ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন;
  • কোনদিকে ঘুরতে হলে আপনার মেরুদন্ড যেন সোজা থাকে  ও মোচড় না খায়, সেই জন্য কেবল উপরের অংশটি না বাঁকিয়ে, পুরো শরীর ঘুরিয়ে ফেলুন; 
  • ওজন সমানভাবে বন্টন করার জন্য হিল জুতা না পরে ফ্ল্যাট জুতা পরুন;
  • কেনাকাটা করার সময় হাতে ব্যাগ বহন করলে এমনভাবে নিন যেন ২ হাতের ব্যাগে ওজনের ভারসাম্য বজায় থাকে; 
  • ঘরে বা অফিসে বসে কাজ করার সময় পিঠ সোজা রাখুন। গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য বিশেষ বালিশ বা ম্যাটারনিটি সাপোর্ট পিলো ব্যবহার করতে পারেন;
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিন, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে;
  • মালিশ করলে বা উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল করলে আরাম পেতে পারেন;
  • এমন জাজিম, তোষক বা ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন যা সঠিকভাবে আপনার ভারবহন করতে পারবে। প্রয়োজনে নরম জাজিমের নিচে একটি হার্ডবোর্ড রেখে নিন যেন তা আরেকটু শক্ত হয়।

যদি ডাক্তারের নিষেধ না থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কমানোর জন্য আপনি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। সবসময় ওষুধের সাথে থাকা কাগজে যে নির্দেশনা লেখা আছে আগে তা পড়ে নিন।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কমানোর ব্যায়াম

এ হালকা ব্যায়ামটি আপনার পেটের পেশিকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

১) চার হাত পায়ে ভর দিয়ে এমন একটি অবস্থানে যান যাতে আপনার হাঁটু নিতম্বের নিচে থাকে, হাত কাঁধের নিচে থাকে, আঙুলগুলো সামনের দিকে থাকে, পেটের পেশী যেন টানটান অবস্থায় থাকে ও পিঠ সোজা থাকে (ছবি ১)।

ছবি ১

২) আপনার পেটের পেশী ভিতরের দিকে টেনে নিন এবং পিঠ উপরের দিকে উঁচু করুন, সেসাথে আপনার মাথা ও নিতম্ব ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামান – আপনার কনুই একদম শক্ত করে ফেলবেন না, আপনার পিঠ যতটা ওপরের দিকে সহজে ওঠাতে পারেন, ঠিক ততটাই ওঠাবেন (ছবি ২)।

ছবি ২

৩) কয়েক সেকেন্ড এ অবস্থানেই থাকুন, তারপর ধীরে ধীরে আগের মত বাক্সের মত একটি অবস্থানে ফিরে আসুন। খেয়াল রাখবেন, পিঠ যেন কখনোই বাঁকা না হয়।  আগের অবস্থানে ফিরে আসার সময় অবশ্যই পিঠ সোজা রাখতে হবে (ছবি ৩)।

ছবি ৩

৪) ধীরে ধীরে ও নিয়মিতভাবে ১০ বার এরকম করুন যেন আপনার পেশী ভালোমত কাজ করে। আর পিঠ নাড়ানোর সময় সতর্ক থাকুন।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার জন্য কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

আপনার কোমর ব্যথা যদি অনেক বেড়ে যায়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তিনি আপনাকে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে পাঠাতে পারেন।  একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে কেমন ব্যায়াম করতে হবে এসব ব্যাপারে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।

কোমর ব্যথার সাথে এই লক্ষণগুলোর কোনটি থাকলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন:

  •  আপনি যদি গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় বা শেষ তিন মাস (Trimester – ট্রাইমেস্টার) এর মধ্যে থাকেন, এ সময়ে তীব্র কোমর ব্যথা, সঠিক সময়ের আগেই প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার লক্ষণ হতে পারে;
  • সাথে যদি  জ্বর থাকে, মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত যায় ও প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হয়;
  • যেকোন একটি বা উভয় পায়ে, নিতম্বে বা যোনিপথে অনুভূতি চলে যায় বা অবশ হয়ে যায়;
  • বুকের যেকোন একপাশে (পাঁজরের নিচে) ব্যথা হয়।