পেটের আলসারের কারণ

গ্যাস্ট্রিক আলসারের সবচেয়ে পরিচিত দুটি কারণ হলো, হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি (H. pylori) ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহনাশক (NSAIDs) গ্রুপের ঔষধ।

পাকস্থলী হতে নিঃসৃত এসিড ও অন্যান্য পাচক রস খাবার হজমের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণের উপরে একটি সুরক্ষাকারী প্রলেপ থাকে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় এসব এসিড ও পাচক রসের হাত থেকে পাকস্থলীর দেয়ালকে রক্ষা করে।

কিন্তু H. pylori ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অথবা NSAIDs গ্রুপের ঔষধ উচ্চ ডোজে/দীর্ঘদিন সেবনের ফলে এসিডের বিরুদ্ধে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে পেটের এসিডের সংস্পর্শে এসে পাকস্থলীর আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এভাবেই গ্যাস্ট্রিক আলসার সৃষ্টি হয়।

ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে পেটে আলসার

পেটে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়া বেশ কমন। যেকোনো বয়সের মানুষই এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। H. pylori সংক্রমণের কারণে সাধারণত কোনো লক্ষণও প্রকাশ পায় না। তাই অনেকে নিজের অজান্তে এই ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। 

হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়াটি পাকস্থলীর দেয়ালে বসবাস করে। কিছু মানুষের পাকস্থলীর আস্তরণে এই ব্যাকটেরিয়া প্রদাহ সৃষ্টি করে। এ কারণে পেটের ভেতরে তৈরি হওয়া এসিড সহজেই পাকস্থলীর আস্তরণে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পাকস্থলীতে প্রদাহ সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। সবার ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কেন সমান নয় সেই কারণটি এখনও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

প্রদাহনাশক ঔষধ সেবনে পেটে আলসার

নন স্টেরয়ডাল প্রদাহনাশক বা NSAIDs হলো এক ধরনের প্রদাহনাশক ঔষধ। এগুলো জ্বর, ব্যথা, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এই গ্রুপের ঔষধগুলো সাধারণ মানুষের কাছে ‘ব্যথার ঔষধ’ হিসেবে পরিচিত। এ জাতীয় ঔষধের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত ৫টি ঔষধ হলো—

  • আইবুপ্রোফেন 
  • অ্যাসপিরিন 
  • ন্যাপ্রোক্সেন
  • ডাইক্লোফেন্যাক
  • এসিক্লোফেন্যাক

অনেকের ক্ষেত্রেই এসব ঔষধ ব্যবহারে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। তবে ঔষধগুলো দীর্ঘদিন ধরে অথবা উচ্চ ডোজে ব্যবহার করলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতার মধ্যে অন্যতম হলো পাকস্থলীর আলসার। 

কারও গ্যাস্ট্রিক আলসার ধরা পড়লে অথবা পূর্বে এমন আলসার হয়ে থাকলে তাদের NSAIDs গ্রুপের ঔষধ সেবন না করার পরামর্শ দেয়া হয়। এসব ঔষধের বিকল্প হিসেবে প্যারাসিটামল সেবন করতে বলা হয়। প্যারাসিটামলকে সাধারণত একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ব্যথানাশক হিসেবে গণ্য হয়। 

বদভ্যাসের কারণে পেটের আলসার

ধূমপান করলে পাকস্থলীর আলসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এমনকি ধূমপানের ফলে আলসারের চিকিৎসার কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাই গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধে বা ইতোমধ্যে গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়ে থাকলে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া উচিত।

এছাড়া পূর্বে মশলাদার খাবার, মানসিক চাপ ও মদপানের অভ্যাসকে পাকস্থলীর আলসারের কারণ বলে মনে করা হতো। তবে এসব ধারণার পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইতোমধ্যে কারও গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়ে থাকলে, এসব কারণে আলসারের লক্ষণগুলো আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

পড়ুন: গ্যাস্ট্রিক আলসারের চিকিৎসা