অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর চিকিৎসা

appendicitis-treatment

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে সাধারণত অপারেশনের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব রোগীর অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলে দিতে হয়। অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণের এই অপারেশনের নাম ‘অ্যাপেন্ডিসেকটোমি’ বা ‘অ্যাপেন্ডেকটোমি’। এটি বেশ কমন একটি অপারেশন।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে এমনটি ধারণা করলে সাধারণত অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিশ্চিতভাবে অ্যাপেন্ডিসাইটিস নির্ণয় করা সম্ভব না হলেও সাধারণত ঝুঁকি না রাখার জন্য এই পরামর্শের ওপর জোর দেওয়া হয়৷

এর কারণ হলো, অ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার পরেও যদি অপারেশন না করানো হয় তাহলে অ্যাপেন্ডিক্স ফুলতে ফুলতে একসময় ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়া একটি গুরুতর সমস্যা, যা থেকে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই সাবধানতাবশত এটি কেটে ফেলে দেওয়াই নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়।

মানবদেহে অ্যাপেন্ডিক্স কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত নয়। তাই আমাদের শরীর থেকে অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হলেও কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয় না। তবে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার পরেও অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা না হলে সেটির ফলাফল মারাত্মক হতে পারে।

অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশন

অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করে কেটে ফেলে দেওয়ার দুটি পদ্ধতি রয়েছে—

  • ১. ল্যাপারোস্কোপি বা কি-হোল সার্জারি
  • ২. ওপেন সার্জারি

ল্যাপারোস্কোপি বা কি-হোল সার্জারি

অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশনের জন্য বর্তমানে সাধারণত ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বেছে নেওয়া হয়৷ কারণ এই পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে। রোগীও অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে।

অপারেশনের পূর্বে জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণরূপে অচেতন করে নেওয়া হয়। এরপর অপারেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই পদ্ধতিতে পুরো পেট না কেটে পেটে তিন থেকে চারটি ছোটো ছোটো ছিদ্র করা হয়।

এই ছিদ্রগুলো দিয়ে বিশেষ কিছু যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। যেমন—

১. একটি টিউব বা নল। এর সাহায্যে পেটে গ্যাস ঢুকিয়ে পেট ফোলানো হয়। ফলে সার্জন অ্যাপেন্ডিক্সটি সহ সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখতে পান। এছাড়া পেটের ভেতরে সহজে কাজ করার জন্য বেশি জায়গা পাওয়া যায়।

২. একটি ল্যাপারোস্কোপ। এটি লাইট ও ক্যামেরাযুক্ত একটি ছোটো টিউব। এর সাহায্যে পেটের ভেতরের ছবি সরাসরি বাইরে রাখা একটি টিভির পর্দায় দেখা যায়। পর্দায় এই ছবি দেখে দেখে সার্জনেরা অপারেশনটি পরিচালনা করতে থাকেন।

৩. ছোটোখাটো সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি। যেমন: সার্জিক্যাল হুক ও কাঁচি। এসব যন্ত্র পেটে ঢুকিয়ে অ্যাপেন্ডিক্সটি কেটে বের করে আনা হয়৷

অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণের পর ছিদ্রগুলো বন্ধ করার জন্য ছোটো ছোটো সেলাই দেওয়া হতে পারে৷ এক্ষেত্রে সাধারণত এমন সার্জিক্যাল সুতা ব্যবহার করা হয় যেগুলো ধীরে ধীরে শরীরের সাথে মিশে যায়। আলাদা করে আর সেলাই কাটার প্রয়োজন হয় না।

তবে এ ধরনের সুতার পরিবর্তে অনেকসময় স্টেপলার পিন অথবা শরীরের সাথে মিশে যায় না এমন সুতাও ব্যবহার করা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অপারেশনের সাত থেকে দশ দিন পরে সেলাইয়ে ব্যবহৃত সার্জিক্যাল সুতা বা স্টেপলার পিন শরীর থেকে অপসারণ করে ফেলতে হয়। একে সাধারণ ভাষায় ‘সেলাই কাটা’ বলা হয়।

যেই হাসপাতালে অপারেশন করা হয় সেখানেই সেলাই অপসারণের ব্যবস্থা করা থাকে। এছাড়া রোগীর সুবিধার্থে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও সেলাই কাটিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

ওপেন সার্জারি

কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশন করা যায় না। তখন পেট সরাসরি কেটে অপারেশন করতে হয়৷ অপারেশনের এই পদ্ধতির নাম ওপেন সার্জারি।

আমাদের দেশে ওপেন সার্জারির পূর্বে রোগীকে সাধারণত ‘স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া’ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অবশ করে অপারেশন করা হয়। তবে কখনো কখনো জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ অচেতন করে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারি করার প্রয়োজন হয় সেগুলো হলো—

  • অ্যাপেন্ডিক্স যদি ইতোমধ্যে ফেটে যায় এবং এরপর অ্যাপেন্ডিক্স এর একটি দলা বা পিণ্ড তৈরি হয়। এ সম্পর্কে ‘জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের বিকল্প’ অংশে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে
  • রোগীর যদি ইতঃপূর্বে কোনো কারণে পেট কেটে সার্জারি করা হয়ে থাকে
  • যেই হাসপাতালে অপারেশন করা হবে সেখানে যদি ল্যাপারোস্কোপির অনুকূল যন্ত্রপাতি ও পরিবেশ না থাকে
  • রোগী যেই ডাক্তারের হাতে অপারেশন করবেন তিনি যদি ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে পারদর্শী না হয়ে থাকেন

ওপেন সার্জারির ক্ষেত্রে পেটের ডানপাশে নিচের অংশ (যেখানে অ্যাপেন্ডিক্স অবস্থিত) কেটে অপারেশন করা হয়। এরপর অ্যাপেন্ডিক্সটি বের করে আনা হয়৷ এক্ষেত্রে কিছুটা বড় করে শুধু একবারই কাটা হয়, বারবার কাটাছেঁড়া বা ছিদ্র করা হয় না।

পেটের ভেতরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়লে (যেমন: পেরিটোনাইটিস) কখনো কখনো পেটের একপাশে কাটার পরিবর্তে মাঝ বরাবর লম্বালম্বিভাবে কেটে অপারেশন করার প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিকে ‘ল্যাপারোটোমি’ বলা হয়।

ওপেন সার্জারির ক্ষেত্রেও ল্যাপারোস্কোপির মতো শরীরের সাথে মিশে যাবে এমন সুতা দিয়ে সেলাই করা যায়৷ আবার শরীরের সাথে মিশে যায় না এমন সাধারণ সার্জিক্যাল সুতা দিয়েও ক্ষতস্থান সেলাই করা যায়। অপারেশনের সাত থেকে দশ দিন পরে সেলাইয়ে ব্যবহৃত সার্জিক্যাল সুতা কেটে শরীর থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়।

যেই হাসপাতালে অপারেশন করা হয় সেখানেই সেলাই কাটানোর ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া রোগীর সুবিধার্থে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও সেলাই কাটিয়ে নেওয়া যায়।

উল্লেখ্য, যেই পদ্ধতিতেই অপারেশন করা হোক না কেন, অপারেশনের পরে কেটে ফেলা অ্যাপেন্ডিক্সটি পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়৷ একে বায়োপসি পরীক্ষা (হিস্টোপ্যাথলজি) বলা হয়ে থাকে। পরীক্ষাটির মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্সটিতে ক্যান্সারের কোনো উপস্থিতি আছে কি না সেটি দেখা হয়। এছাড়া এই পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্স এর প্রকৃত সমস্যাটি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা যায়।

এই পরীক্ষাটি সতর্কতাবশত করা হয়ে থাকে। যদিও কোনো গুরুতর রোগের উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনা বিরল, তবুও ক্যান্সারের কোনো সম্ভাবনা থাকলে তা যেন ধরা পড়ে এই উদ্দেশ্যে রুটিনভাবে পরীক্ষাটি করা হয়ে থাকে।

অপারেশনের পর সুস্থতা লাভ

ল্যাপারোস্কোপির একটি বড় সুবিধা হলো, এই অপারেশনের পরে পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় ফিরতে সাধারণত খুব কম সময় লাগে। রোগী সাধারণত দুয়েকদিন পরেই বাসায় ফিরতে পারেন। এমনকি অপারেশনটি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলে রোগী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।

ওপেন পদ্ধতিতে অপারেশন করা হলে অথবা অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর কোনো জটিলতা থাকলে (যেমন: পেরিটোনাইটিস) অপারেশনের পরে এক সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হতে পারে।

অপারেশন-পরবর্তী প্রথম কয়েকদিন ক্ষতস্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হওয়া স্বাভাবিক। সময়ের সাথে এগুলো নিজে নিজেই চলে যায়। তবে প্রয়োজনবোধে প্যারাসিটামলের মতো ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া যেতে পারে।

ল্যাপারোস্কোপির ক্ষেত্রে অপারেশনের পরে কাঁধের ওপরের দিকে সপ্তাহখানেক ব্যথা থাকতে পারে। অপারেশনের সময়ে পেটের ভেতরে যেই গ্যাস ঢুকানো হয়েছিল সেটির কারণেই এই ব্যথা হয়।

এছাড়া অপারেশনের পরে অল্প কিছুদিন রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কোডেইন জাতীয় পেইনকিলার এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে ফাইবারযুক্ত খাবার, পানি ও তরল পানীয় খেতে হবে।

এসব মেনে চলার পরেও যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান না হয় তাহলে ডাক্তার ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিতে পারেন।

হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার পূর্বে অপারেশনের জায়গাটির যত্ন কীভাবে নিতে হবে এবং কী কী কাজ এড়িয়ে চলতে হবে সেই সম্পর্কে ডাক্তার রোগীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিবেন। এগুলো সাধারণত ডিসচার্জ পেপার বা ছুটির কাগজে লিখে দেওয়া হয়।

অপারেশনের পরে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে পারেন। তবে ওপেন সার্জারির ক্ষেত্রে অপারেশন-পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহ ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তার পরামর্শ দিবেন।

অপারেশনের পরেও যেসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে 

অপারেশনের পরে সুস্থতা লাভের সময়ে কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকসময় অপারেশনের পরেও ইনফেকশন হয়ে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে৷ এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অপারেশনের স্থানে ব্যথা ও ফোলা বাড়তে থাকা
  • বারবার বমি হওয়া
  • জ্বর আসা
  • সেলাইয়ের স্থান থেকে রক্ত, পানি, পুঁজ অথবা কোনো তরল বেরিয়ে আসা
  • সেলাইয়ের স্থানে হাত দিলে স্থানটি গরম হয়ে আছে বলে মনে হওয়া

অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশনের ঝুঁকি

আমাদের দেশে হওয়া সবচেয়ে কমন অপারেশনগুলোর মধ্যে একটি হলো অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশন। এই অপারেশনে গুরুতর বা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা বিরল। তবে যেকোনো অপারেশনের মতো অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশনেও কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—

১. ক্ষতস্থানে বা সেলাইয়ের স্থানে ইনফেকশন: সাধারণত গুরুতর ইনফেকশন প্রতিরোধে অপারেশনের সময়ে অথবা অপারেশনের আগে-পরে রোগীকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এরপরেও কারও কারও ক্ষেত্রে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।

২. হেমাটোমা: কখনো কখনো অপারেশনের পরে চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয়। সেই রক্ত জমাট বেঁধে একটি চাকার মতো আকার ধারণ করে। একে হেমাটোমা বলা হয়। রক্তের এই চাকা সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে যদি এটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৩. সেলাইয়ের দাগ থেকে যাওয়া: অপারেশনের উভয় পদ্ধতিতেই সেলাইয়ের স্থানের চামড়া মোটা হয়ে গিয়ে দাগ পড়ে। তবে ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশনের দাগ তুলনামূলকভাবে অনেক ছোটো হয়।

৪. পুঁজ জমে ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হওয়া: অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গিয়ে ইনফেকশন হলে সেক্ষেত্রে অপারেশনের পর এমন ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হতে পারে। তবে এমনটা সচরাচর দেখা যায় না।

৫. হার্নিয়া: কারও কারও ক্ষেত্রে অপারেশনের পরে সেলাইয়ের স্থানটি পুরোপুরি সেরে ওঠার আগে সেখান দিয়ে পেটের ভেতরের কোনো কিছু (যেমন: ফ্যাট বা নাড়িভুঁড়ি) বেরিয়ে আসতে পারে।

এ ছাড়া অপারেশনে ব্যবহৃত চেতনানাশকের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন: যেকোনো প্রকারের চেতনানাশক ব্যবহারে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে।

পুরোপুরি অচেতন করে অপারেশন করানোর সময়ে পাকস্থলীর ভেতরে থাকা খাবার ও অন্যান্য তরল উপরে উঠে শ্বাসনালীতে চলে যেতে পারে। এর ফলে রোগীর নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে। তবে এ ধরণের গুরুতর জটিলতা হওয়ার ঘটনা একেবারেই বিরল।

জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের বিকল্প

কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিসাইটিস থেকে অ্যাপেন্ডিক্স এর একটি দলা বা পিণ্ড তৈরি হতে পারে। সাধারণত অ্যাপেন্ডিক্স ও পেটের ভেতরে থাকা চর্বির মতো অংশবিশেষ মিলে এই দলাটি তৈরি হয়।

আমাদের শরীর সাধারণত যেকোনো অসুখ বা সমস্যা প্রথমে নিজে নিজে সারানোর চেষ্টা করে। ঠিক একারণে ইনফেকশন ছড়ানো প্রতিরোধ করা এবং আক্রান্ত অ্যাপেন্ডিক্সটি সারিয়ে তোলার জন্য শরীর নিজে নিজে এই পিণ্ডটি তৈরি করে।

ডাক্তার রোগীর পেট পরীক্ষা করার সময়ে যদি অ্যাপেন্ডিক্স এর এমন একটি দলা লক্ষ করেন তাহলে তিনি সাথে সাথে অপারেশন না করে কিছু সময় অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দলাটি সারিয়ে তোলার জন্য এই সময়টুকু নেওয়া হয়। কারণ এমন অবস্থায় অপারেশন করলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এই অবস্থায় অপারেশনের পরিবর্তে এক কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে দেওয়া হয়। কয়েক সপ্তাহ পরে দলাটি সেরে গেলে রোগীকে পুনরায় অপারেশনের জন্য হাসপাতালে যেতে বলা হয়।

তবে অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর চিকিৎসায় অপারেশনের বিকল্প হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক এর কার্যকারিতার যথেষ্ট সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।